দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন। তবে এর কারণ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি নন। তার সমর্থনের মূল কারণ দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
ইসরায়েলি কৌতুকশিল্পী বেন বেন বারুখ সঞ্চালিত ‘দ্য মোজো’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার দিকে নজর রাখছেন।
সঞ্চালক যখন জানতে চান, এর কারণ কি মেসি, তখন নেতানিয়াহু সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘না, মেসির আগে মিলেই। তিনি একজন সুপারস্টার।’
এরপর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি একজন তারকা, সত্যিই একজন সুপারস্টার। মুক্ত অর্থনীতি গ্রহণের মাধ্যমে তিনি এই অবস্থান অর্জন করেছেন। মিলেই ইসরায়েলের একজন বড় বন্ধু।’
আলোচনার একপর্যায়ে নেতানিয়াহু রসিকতার সুরে মিলেইকে একজন ফুটবলারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার বয়স ও অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ভাগ্যবান যে এমন একজন অভিজ্ঞ ‘খেলোয়াড়’ তাদের রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিলেইর বয়স ৩৯ বছর। এই মন্তব্য তিনি হাস্যরসের ভঙ্গিতে করেন।
অনুষ্ঠানের একটি সম্পাদিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতি নেতানিয়াহুর সমর্থন মূলত প্রেসিডেন্ট মিলেইর প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং ইসরায়েল-আর্জেন্টিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে খেলছে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সমর্থন পাচ্ছে।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে আর্জেন্টিনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে। সাধারণত আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলোচনায় মেসি, কৌশল বা মাঠের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্ব পায়। তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হাভিয়ের মিলেইর নেতৃত্ব এবং তার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হাভিয়ের মিলেই প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যেও সেই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা গেছে। মেসির পরিবর্তে তিনি বারবার আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক নীতির প্রশংসা করেছেন।
এই কারণেই ফুটবল অঙ্গনে নেতানিয়াহুর বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসির প্রশংসা করার সুযোগ থাকলেও তিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টকেই আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ফলে ফুটবলের পাশাপাশি কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কও এই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
/অ